ব্রিটিশ পাউন্ডের ট্রেডের বিশ্লেষণ এবং ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
যখন MACD সূচকটি শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.2659 এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা পাউন্ড ক্রয়ের জন্য একটি উপযুক্ত এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। এর ফলে, এই পেয়ারের মূল্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা 1.2689 লেভেলের দিকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট খাত সংক্রান্ত প্রতিবেদনের নেতিবাচক ফলাফলের কারণে ডলারের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কায় ডলারভিত্তিক অ্যাসেট বিক্রি করা শুরু করে, যা ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ডলারের দরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। তবে, ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি মার্কেটে ক্রেতাদের বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শিগগিরই যুক্তরাজ্যের প্রতিও মনোযোগ দিতে পারেন, তাই আজ পাউন্ড কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
দুর্ভাগ্যবশত, আজ যুক্তরাজ্য থেকে কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কোনো কর্মকর্তার নির্ধারিত বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকার দেওয়ারও কথা নেই। ফলস্বরূপ, পাউন্ডের মূল্যের উল্লেখযোগ্য কারেকশন দেখা যেতে পারে। বিনিয়োগকারীরা সম্ভবত সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের মূল্যের মুভমেন্টের ওপর বিশেষভাবে নজর রাখবেন, কারণ যুক্তরাজ্যে কোন প্রভাবক অনুপস্থিত থাকায় পাউন্ড বাহ্যিক প্রভাবের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। টেকনিক্যাল বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ পাউন্ডের মূল্য মূল সাপোর্ট লেভেল ব্রেক করে গেলে নিম্নমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
স্বল্পমেয়াদে, ট্রেডারদের উচিত মার্কিন সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন এবং সামগ্রিক ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের মূল্যের প্রবণতাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। যদি ডলার শক্তিশালী হয় এবং বাজার পরিস্থিতি আরও নেতিবাচক হয়, তবে পাউন্ড অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। বিপরীতে, যদি বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তাহলে কিছুটা স্থিতিশীলতা বা মাঝারি মাত্রায় পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে।
দৈনিক কৌশলের ক্ষেত্রে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং পরিকল্পনা #2 অনুসরণ করব।
বাই সিগন্যাল
পরিকল্পনা #1: আজ যখন GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.2698-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.2666-এর (চার্টে সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছাবে তখন আমি পাউন্ড কেনার পরিকল্পনা করছি। মূল্য প্রায় 1.2698-এর লেভেলের আশেপাশে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি (উল্লিখিত লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের আশা করছি)। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে 1.2644-এর লেভেলে মূল্যের পরপর দুটি টেস্টের ক্ষেত্রেও আমি আজ ইউরো কিনতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নগামী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং বাজারদরকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.2666 এবং 1.2698-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির আশা করতে পারি।
সেল সিগন্যাল
পরিকল্পনা #1: আজ এই পেয়ারের মূল্য 1.2644-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেল ব্রেক করে নিচের দিকে যাওয়ার পর আমি পাউন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি, যা GBP/USD-এর দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.2613-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি (এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস মুভমেন্টের আশা করছি)। যতটা সম্ভব মূল্য উচ্চ লেভেলে থাকা অবস্থায় পাউন্ড বিক্রি করা উচিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার বিক্রি করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্য নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে 1.2666-এর লেভেলে মূল্যের পরপর দুটি টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ পাউন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং বাজারদরকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী দিকে নিয়ে যাবে। আমরা 1.2644 এবং 1.2613-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।
চার্টে কী আছে:
- হালকা সবুজ লাইন: এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট ক্রয়ের জন্য এন্ট্রি প্রাইস।
- গাঢ় সবুজ লাইন: টেক-প্রফিট (TP) সেট করতে পারেন বা ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা, কারণ এই লেভেলের উপরে আরও দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
- হালকা লাল লাইন: এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট বিক্রয়ের জন্য এন্ট্রি প্রাইস।
- গাঢ় লাল লাইন:টেক-প্রফিট (TP) সেট করতে পারেন বা ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা, কারণ এই লেভেলের নিচে আরও দরপতনের সম্ভাবনা নেই।
- MACD সূচক: মার্কেটে এন্ট্রি করার সময়, ওভারবট এবং ওভারসোল্ড জোন চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ফরেক্স ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
- মার্কেটে এন্ট্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নতুন ট্রেডারদের খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে, মূল্যের তীব্র ওঠানামা এড়াতে ট্রেডিং না করাই উচিত। সংবাদ প্রকাশের সময় ট্রেড করলে, ঝুঁকি কমাতে সর্বদা স্টপ-লস অর্ডার সেট করুন। স্টপ-লস অর্ডার বা মানি ম্যানেজমেন্টের কৌশল ছাড়াই ট্রেড করলে আপনার ডিপোজিট দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে বড় ভলিউমে ট্রেড করার সময়।
- সফলভাবে ট্রেড করার জন্য ট্রেডিংয়ের একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে, ঠিক যেমনটি আমি এই নিবন্ধে প্রদর্শন করেছি। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ট্রেডিংয়ের স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত দৈনিক ভিত্তিতে ট্রেড করা যেকোন নতুন ট্রেডারের জন্য সহজাতভাবে লোকসান বয়ে নিয়ে আসতে পারে।